
দেশের দরিদ্র, বেকার ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার চালু করছে নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি “ফ্যামিলি কার্ড”। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ কর্মসূচির নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যা প্রচলিত অনেক ভাতার চেয়ে বেশি।
এই ফিচারে সহজ ভাষায় জানুন ফ্যামিলি কার্ড কী, কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী কাগজ লাগবে, এবং আবেদন করবেন কীভাবে।
ফ্যামিলি কার্ড কী?
ফ্যামিলি কার্ড একটি ডেটাবেসভিত্তিক সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে নির্ধারিত যোগ্য পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ ভাতা দেওয়া হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী প্রধান বা গৃহকর্ত্রীর হাতে দেওয়া হবে। এতে পরিবার পরিচালনায় নারীর ভূমিকা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।
সরকারের লক্ষ্য কয়েক মাসের মধ্যে দেশের বড় অংশের যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা।
ফ্যামিলি কার্ডের প্রধান সুবিধা
• ভাতার পরিমাণ বেশি: প্রচলিত বয়স্ক, বিধবা বা অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় সহায়তা বেশি হওয়ার পরিকল্পনা।
• নারীর হাতে টাকা: সরাসরি গৃহকর্ত্রীর কাছে অর্থ যাবে।
• দ্রুত কার্যক্রম: ঈদের আগেই কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা।
• মৌলিক চাহিদা পূরণ: খাদ্য, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে সহায়তা করবে।
কারা ফ্যামিলি কার্ড পেতে পারেন (সম্ভাব্য যোগ্যতা)
চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের আগে পরিবর্তন হতে পারে, তবে সম্ভাব্য যোগ্যতা:
• বাংলাদেশি নাগরিক
• নিম্ন আয়ের বা দরিদ্র পরিবার
• পরিবারের নারী সদস্য আবেদনকারী
• বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী নারী বা অসচ্ছল পরিবার অগ্রাধিকার পেতে পারে
• আগে একই ধরনের সরকারি ভাতা না পেলে অগ্রাধিকার
ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করতে কী কী লাগবে
আবেদনের সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্র লাগতে পারে:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
২. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৩. পরিবারের সদস্যদের তথ্য
৪. জন্মনিবন্ধন (যদি প্রযোজ্য)
৫. আয়ের সনদপত্র
৬. বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি (ঠিকানা যাচাই)
৭. মোবাইল নম্বর
অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড আবেদন পদ্ধতি (সম্ভাব্য)
সরকার ওয়েবসাইট চালু করলে অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
ধাপসমূহ
১. সরকারি নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ
২. আবেদন ফর্ম পূরণ
• নাম
• NID নম্বর
• মোবাইল নম্বর
• ঠিকানা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা
• আয় তথ্য
৩. প্রয়োজনীয় কাগজ স্ক্যান করে আপলোড
৪. সাবমিট করলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যাবে
৫. সেই নম্বর দিয়ে আবেদন স্ট্যাটাস দেখা যাবে
অফলাইনে আবেদন করার নিয়ম
যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না তারা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
যেখানে যোগাযোগ করবেন
• ইউনিয়ন পরিষদ
• পৌরসভা কার্যালয়
• উপজেলা সমাজসেবা অফিস
প্রক্রিয়া
১. আবেদন ফরম সংগ্রহ
২. তথ্য পূরণ
৩. কাগজপত্র জমা
৪. যাচাই শেষে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ
টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে
ভাতা তোলার সম্ভাব্য পদ্ধতি:
• ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
• মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট)
• নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
• ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
• দালাল বা অতিরিক্ত টাকা লেনদেন করবেন না
• অফিসিয়াল ঘোষণা ছাড়া কোনো লিংকে তথ্য দেবেন না
• সরকারি নোটিশ দেখেই আবেদন করবেন
ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে দেশের বিপুল সংখ্যক নিম্নআয়ের পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তা পাবে। বিশেষ করে নারীদের হাতে অর্থ পৌঁছানোয় পরিবার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশ হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।