
ঝালকাঠিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহবান জানিয়েছে সিভিল সোসাইটি এ্যাকশন কমিটি এবং ইয়ুথ ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট।
তামাক শুধু স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা নয়, পরিবেশেরজন্যও এক ভয়াবহ হুমকি। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবহার প্রতিটি ধাপেইপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। প্রতি৩০০টি সিগারেট তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ কেটেফেলায় উজার হচ্ছে বনভূমি। এ ছাড়া্ও তামাকপাতাপ্রক্রিয়াজাত করতে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানো হয়, ফলে বন উজাড়ের পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও জলবায়ুপরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তামাক কারখানা থেকেধোঁয়া, ধুলিকণা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানবাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ এবং বায়ুকেমারাত্মকভাবে দূষিত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিবছর তামাক ব্যবহারেরকারণে দেশে প্রায় প্রায় ১৯৯,১৪৯ জন মৃত্যুবরণ করে।২০২৪–২৫ অর্থবছরে তামাকজনিত কারণেঅর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজারকোটি টাকারও বেশি। তামাকের পরিবেশগত ক্ষতিস্বাস্থ্য, পরিবেশ, দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন এসবলক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে। পরিবেশসুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করাঅত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে২০০৩ সালে ৫৬ তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ফ্রেমওয়ার্ককনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং এই চুক্তির প্রথম স্বাক্ষরকারীরাষ্ট্র হিসেবে ২০০৪ সালে এ চুক্তিটি অনুসমর্থন করে।পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এফসিটিসি’রআলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার(নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ প্রণয়ন করে।
স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশগত এই ব্যাপক ক্ষতিরোধে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ কে আরো শক্তিশালী করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানপ্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় চলমানসংসদ অধিবেশনেই উক্ত অধ্যাদেশটি আইনেপরিনত করা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু আমরা উদ্বেগেরসাথে লক্ষ্য করছি তামাক কোম্পানিগুলো বিগতদিনের ন্যায় অধ্যাদেশটি দূর্বল করার জন্য নানাধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকরছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও তরুনরা জনপ্রতিনিধিদের নিকট চলমান সংসদ অধিবেশনেউক্ত অধ্যাদেশটি আইনে রুপান্তরিত করার জন্যসমর্থন প্রদানের আহবান জানাচ্ছে। পবা প্রত্যাশাকরছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোর অনৈতিক হস্তক্ষেপ উপেক্ষা করে অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হবে।